বয়স অনুযায়ী ঘরের কাজ দিলে শিশু শেখে সে পরিবারের দরকারি সদস্য, আর সাথে আসে আত্মনির্ভরতা, পরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধ। শুরুটা হতে পারে দেড়-দুই বছরে খেলনা ঝুড়িতে রাখা দিয়ে; কিশোর বয়সে পৌঁছে সে নিজের কাপড় ধোয়া, সহজ রান্না ও বাজারের হিসাব রাখতে পারে। মূল কথা: কাজ নিখুঁত হবে না, তবু শিশুকেই করতে দিন।
বয়স অনুযায়ী কাজের তালিকা
| বয়স | যে কাজগুলো দেওয়া যায় |
|---|---|
| ১–২ বছর | খেলনা ঝুড়িতে রাখা, ময়লা কাপড় ঝুড়িতে দেওয়া, ছোট জিনিস এনে দেওয়া |
| ৩–৫ বছর | খেলনা গোছানো, টেবিলে চামচ রাখা, গাছে পানি দেওয়া, জুতা জায়গামতো রাখা |
| ৬–৮ বছর | নিজের বিছানা গোছানো, স্কুলব্যাগ গোছানো, টেবিল সাজানো-মোছা, কাপড় ভাঁজ করা |
| ৯–১২ বছর | ঝাড়ু দেওয়া, সহজ নাস্তা বানানো, থালা ধোয়া, ছোট ভাইবোনকে সাহায্য |
| ১৩–১৭ বছর | নিজের কাপড় ধোয়া, সহজ রান্না, বাজারের তালিকা ও হিসাব, বিল জমা দেওয়ায় সাহায্য |
AAP-ও বয়সভিত্তিক কাজ দেওয়ার কথা বলে; প্রতিটি শিশুর সামর্থ্য অনুযায়ী তালিকা বদলে নিন।
কীভাবে শেখাবেন: চার ধাপ
১. আপনি করুন, শিশু দেখুক। কাজটা ধীরে করে দেখান, কথা বলে বলে। ২. একসাথে করুন। আপনি অর্ধেক, শিশু অর্ধেক। ৩. শিশু করুক, আপনি পাশে থাকুন। ভুল হলে শুধু ইঙ্গিত দিন। ৪. শিশু একা করুক। মাঝে মাঝে দেখুন, প্রশংসা করুন।
বয়স অনুযায়ী কী মনে রাখবেন
১–২ বছর: খেলার মতো
এই বয়সে শিশু বড়দের নকল করতে ভালোবাসে। ঝাড়ু দিচ্ছেন, শিশুকে ছোট কাপড় দিন মোছার জন্য। গান গেয়ে খেলনা গোছান: "খেলনা যাবে বাসায়, ঝুড়ি নামের বাসায়।"
৩–৫ বছর: ছবির চার্ট
প্রতিদিনের দুই-তিনটি কাজ ছবি দিয়ে চার্টে লাগান। কাজ শেষে শিশু নিজে স্টিকার দেবে। কাজকে প্রতিযোগিতা বানান: "গান শেষ হওয়ার আগে খেলনা তুলতে পারবে?"
৬–৮ বছর: নিজের দায়িত্ব
এখন কিছু কাজ শিশুর "নিজের" হোক: প্রতি রাতে স্কুলব্যাগ গোছানো, খাওয়ার আগে টেবিল সাজানো। মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য চার্ট রাখুন, কিন্তু কাজটা শিশুই করবে।
৯–১২ বছর: দক্ষতা বাড়ানো
সহজ রান্না (ডিম সেদ্ধ, স্যান্ডউইচ), থালা ধোয়া, নিজের রুম গোছানো। চুলা বা ছুরি ব্যবহারে প্রথমে সাথে থাকুন। ভাইবোনের সাথে কাজ ভাগ করে সাপ্তাহিক পালা ঠিক করুন।
১৩–১৭ বছর: স্বাধীন জীবনের প্রস্তুতি
নিজের কাপড় ধোয়া-ইস্ত্রি, সপ্তাহে একবেলা পরিবারের জন্য রান্না, বাজারের তালিকা ও খরচের হিসাব। এগুলো হোস্টেল, বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরিজীবনে সরাসরি কাজে লাগে। কিশোরের পড়ার চাপ বুঝে কাজের পরিমাণ ঠিক করুন, কিন্তু একেবারে বাদ দেবেন না।
যা এড়িয়ে চলবেন
- শিশুর করা কাজ সাথে সাথে নিজে আবার করে দেওয়া।
- শাস্তি হিসেবে ঘরের কাজ দেওয়া; এতে কাজের প্রতি বিরক্তি জন্মায়।
- ছেলে আর মেয়েকে আলাদা ধরনের কাজ দেওয়া।
- সব নিয়মিত কাজের জন্য টাকা দেওয়া।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
অনেক বাসায় কাজের সহায়ক থাকেন, আর বড়রা ভাবেন "পড়াশোনাই ওর কাজ।" কিন্তু যে শিশু নিজের থালা ধুতে, কাপড় গোছাতে বা ডিম ভাজতে পারে, সে হোস্টেলে বা বিদেশে পড়তে গেলে অনেক কম কষ্ট পায়। আমাদের সমাজে মেয়েশিশুকে বেশি ঘরের কাজ দেওয়ার প্রবণতা আছে; ছেলে ও মেয়ে দুজনকেই রান্না, গোছানো ও পরিষ্কারের কাজ সমানভাবে শেখান।
কখন সাহায্য নেবেন
বয়স অনুযায়ী সহজ কাজও যদি শিশু একেবারেই মনে রাখতে বা ধাপ অনুসরণ করতে না পারে, অথবা মনোযোগ ও সংগঠনের সমস্যা পড়াশোনাতেও দেখা যায়, তাহলে বিকাশ মূল্যায়নের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
