সন্তানের সাথে পেশা নিয়ে কথা বলার লক্ষ্য ছোট বয়সে কৌতূহল জাগানো, বড় বয়সে আগ্রহ আর সামর্থ্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা, কোনো পেশা চাপিয়ে দেওয়া নয়। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারের বাইরেও অনেক সম্মানজনক ও উপার্জনের পথ আছে, আর আজকের অনেক পেশা দশ বছর আগে ছিলই না। নানা কাজ দেখার, চেষ্টা করার আর ভুল করার সুযোগ সন্তানকে নিজেকে চিনতে সাহায্য করে।
এক নজরে: বয়স অনুযায়ী
| বয়স | কী হয় | বাবা-মায়ের ভূমিকা |
|---|---|---|
| ৬–৮ বছর | কল্পনার পেশা: পাইলট, পুলিশ, শিক্ষক | নানা কাজের মানুষের সাথে পরিচয়, খেলায় পেশা |
| ৯–১২ বছর | আগ্রহ স্পষ্ট হতে থাকে | আগ্রহের ক্লাব, বই, প্রতিযোগিতা, দক্ষতা গড়া |
| ১৩–১৭ বছর | বিভাগ বাছাই, ভর্তি, ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ | তথ্য সংগ্রহ, অভিজ্ঞ মানুষের সাথে আলাপ, সিদ্ধান্তে সাহায্য |
বয়স অনুযায়ী কী করবেন
৬–৮ বছর: চারপাশের কাজ দেখা
ডাক্তারের কাছে গেলে, বাজারে, ব্যাংকে বা নির্মাণকাজের পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় কথা বলুন: "উনি কী কাজ করেন? কেন এই কাজ দরকার?" পেশার খেলা (দোকানদার, শিক্ষক, রাঁধুনি) আগ্রহ জাগায়। পরিবারের সদস্যদের কাজ নিয়ে গল্প শোনান। এই বয়সে "পুলিশ হব" থেকে "আইসক্রিমওয়ালা হব" পর্যন্ত সব উত্তরই ঠিক।
৯–১২ বছর: আগ্রহ খুঁজে বের করা
খেয়াল করুন সন্তান কোন কাজে মগ্ন হয়: আঁকা, যন্ত্র খোলা, গল্প লেখা, প্রাণীর যত্ন, খেলাধুলা। সেই আগ্রহের ক্লাব, বিজ্ঞান মেলা, বিতর্ক বা অনলাইন কোর্সে যুক্ত করুন। বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনী পড়তে দিন। নম্বরের বাইরের দক্ষতা (যোগাযোগ, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান) গুরুত্ব দিন।
১৩–১৭ বছর: তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত
নবম শ্রেণিতে বিভাগ বাছাই অনেক পরিবারের বড় সিদ্ধান্ত। সন্তানের সাথে বসে দেখুন:
- কোন বিষয়ে আগ্রহ ও ভালো ফল?
- কোন পেশায় যেতে কোন বিভাগ দরকার?
- সেই পেশার মানুষের সাথে আলাপ করা যায় কি?
এইচএসসির পর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, প্রকৌশল, কারিগরি শিক্ষা, ডিপ্লোমা বা নিজের ব্যবসা: সব পথ নিয়ে খোলা আলোচনা করুন। AAP কিশোরদের ধীরে ধীরে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলে।
ভালো প্রশ্ন, যা চাপ দেয় না
- "আজ ক্লাসে কোন বিষয়টা সবচেয়ে মজার লেগেছে?"
- "কোন কাজ করতে গেলে তুমি সময়ের কথা ভুলে যাও?"
- "কোন সমস্যা সমাধান করতে পারলে তোমার ভালো লাগবে?"
- "এই পেশার একজন মানুষের সাথে কথা বলতে চাও?"
যা এড়িয়ে চলবেন
- "ডাক্তার না হলে জীবন বৃথা" জাতীয় কথা।
- আত্মীয়দের সন্তানের সাথে তুলনা।
- নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের ওপর চাপানো।
- "এটায় টাকা নেই" বলে আগ্রহ শুরুতেই থামিয়ে দেওয়া; আগে তথ্য খুঁজুন।
- মেয়ে বা ছেলে হিসেবে কোনো পেশা "মানায় না" বলা।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
আমাদের সমাজে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারি চাকরিকে প্রায়ই একমাত্র সফল পথ ভাবা হয়। অথচ আইটি, গ্রাফিক ডিজাইন, কৃষি প্রযুক্তি, ফার্মেসি, নার্সিং, আইন, সাংবাদিকতা, উদ্যোক্তা হওয়া, এমন অনেক পথে মানুষ ভালো করছে। কারিগরি শিক্ষাকেও ছোট করে দেখবেন না। পরিচিত বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে সন্তানকে কথা বলার সুযোগ করে দিন।
কখন সাহায্য নেবেন
যদি বিভাগ বা ভর্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের চাপে সন্তান দীর্ঘদিন উদ্বিগ্ন বা হতাশ থাকে, ঘুম-খাওয়া ব্যাহত হয়, বা পরিবারে এ নিয়ে লাগাতার বিরোধ চলে, তাহলে স্কুলের ক্যারিয়ার কাউন্সেলর বা মনোবিদের সাহায্য নিন।
