উনিশ থেকে চব্বিশ মাসে শিশুর ভাষা ও স্বাধীনতা দুটোই লাফিয়ে বাড়ে: দৌড়ানো, বল লাথি, দুই শব্দের বাক্য, "আমি নিজে করব!" আর বড় অনুভূতি। দুই বছরের কাছাকাছি অনেক শিশু টয়লেট ট্রেনিংয়ের প্রথম লক্ষণ দেখায়। এই সময়ে প্রতিদিন কথা বলা, বই পড়া, বাইরে খেলা আর পরিবারের সাথে একসাথে খাওয়া সবচেয়ে কাজে দেয়। মাইলস্টোনগুলো গড়; সতর্ক সংকেতগুলো মনে রাখুন।
এক নজরে: ১৯–২৪ মাস
| মাস | বিকাশ (সাধারণত) | খাবার | ঘুম |
|---|---|---|---|
| ১৯–২০ মাস | দ্রুত হাঁটা, সাহায্যে সিঁড়ি, নতুন শব্দ প্রতি সপ্তাহে | পরিবারের খাবার, দিনে ৩–৪ বার + ১–২ নাস্তা | দিনে ১টি ঘুম |
| ২১–২২ মাস | দৌড়, ব্লকের টাওয়ার, শরীরের অঙ্গ দেখানো | নিজে চামচে খাওয়া | মোট ১১–১৪ ঘণ্টা |
| ২৩–২৪ মাস | বল লাথি, দুই শব্দের বাক্য, অন্যের কষ্ট খেয়াল করা | বৈচিত্র্যময় খাবার, বুকের দুধ চালু রাখা যায় | রাতে ১০–১২ ঘণ্টা + দুপুরে ঘুম |
মাসে মাসে কী দেখবেন
১৯–২০ মাস
হাঁটা দ্রুত হয়, সাহায্য নিয়ে সিঁড়ি ওঠে, ধাক্কা দিয়ে খেলনা চালায়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে নতুন শব্দ শেখে। ছবির বইয়ে জিনিসের নাম জিজ্ঞেস করুন, শিশুর বলা শব্দে একটি করে শব্দ যোগ করুন ("গাড়ি" → "লাল গাড়ি")।
২১–২২ মাস
দৌড়ায়, কয়েকটি ব্লক দিয়ে টাওয়ার বানায়, জিজ্ঞেস করলে নাক-চোখ-কান দেখায়। "না" আর জেদ বাড়তে পারে; ছোট পছন্দ দিন, পরিবর্তনের আগে সতর্ক করুন।
২৩–২৪ মাস
বল লাথি দেয়, চামচে খায়, অন্তত দুই শব্দ মিলিয়ে বলে ("আরও দুধ", "বাবা যাও"), বইয়ে জিজ্ঞেস করা ছবি দেখায়, চুমু ছোড়া বা মাথা নাড়ার মতো ইশারা বেশি করে, আর অন্য কেউ কাঁদলে খেয়াল করে বা থেমে তাকায়। এক হাতে কিছু ধরে অন্য হাতে কাজ করতে পারে, যেমন বাটি ধরে চামচে খাওয়া।
খাবার
- পরিবারের খাবার: দিনে ৩–৪ বার, ১–২ বার পুষ্টিকর নাস্তা। ঝাল-লবণ কম করে শিশুর অংশ আলাদা করুন।
- প্লেটে বৈচিত্র্য: ভাত বা রুটি + ডাল + মাছ/ডিম/মুরগি + সবজি + মৌসুমি ফল।
- বুকের দুধ: WHO দুই বছর বা তার বেশি পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।
- দুধ ও পানি: কাপ বা সিপারে। বোতল ধীরে ধীরে ছাড়ান; রাতে বোতলে দুধ নিয়ে ঘুমানো দাঁতের ক্ষতি করে।
এড়িয়ে চলুন: চিপস, কোমল পানীয়, প্যাকেটের জুস, বাড়তি চিনি-লবণ, চা। গোটা বাদাম, গোটা আঙুর, শক্ত চকলেট ও পপকর্ন এখনও গলায় আটকানোর ঝুঁকিপূর্ণ।
খুঁতখুঁতে খাওয়া: এই বয়সে নতুন খাবারে "না" বলা স্বাভাবিক। একই খাবার ১০–১৫ বার পর্যন্ত দেখানো লাগতে পারে। জোর করবেন না, পরিবারের সবাই একসাথে খান, আর স্ক্রিন বন্ধ রাখুন।
ঘুম
দিনের ঘুমসহ মোট প্রায় ১১–১৪ ঘণ্টা: রাতে ১০–১২ ঘণ্টা আর দুপুরে একটি ঘুম। শোবার আগের রুটিন একই রাখুন, ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ। WHO ২ বছরের কম বয়সে স্ক্রিন না দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
টয়লেট ট্রেনিং: প্রস্তুতির লক্ষণ
- কয়েক ঘণ্টা ডায়াপার শুকনো থাকে
- প্রস্রাব-পায়খানার আগে বা পরে জানায়
- ভেজা বা নোংরা ডায়াপারে অস্বস্তি দেখায়
- প্যান্ট টেনে নামাতে-ওঠাতে পারে, সহজ নির্দেশ মানে
লক্ষণ দেখা দিলে পটি চেয়ার দিয়ে শুরু করুন, নির্দিষ্ট সময়ে (ঘুম থেকে উঠে, খাওয়ার পর) বসান। দুর্ঘটনায় বকবেন না। দিনে কাপড়ের ডায়াপার ব্যবহার করলে শিশু ভেজা অনুভূতি বুঝতে পারে; রাতে ডায়াপার আরও কিছুদিন লাগতে পারে।
জেদ ও আবেগ
দুই বছরের কাছাকাছি রাগের বিস্ফোরণ খুব সাধারণ, কারণ শিশু অনেক কিছু চায় কিন্তু বলতে পারে না। AAP জানায়, এই বয়সে আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খুব কম থাকে। শান্ত থাকুন, নিরাপদ রাখুন, অনুভূতির নাম বলুন, আর থামলে জড়িয়ে ধরুন।
নিরাপত্তা চেকলিস্ট
- দৌড়ানো শিশু: রাস্তায় সবসময় হাত ধরে, পার্কিং ও গেটের কাছে সতর্কতা
- বারান্দা, ছাদ, জানালা: রেলিংয়ের পাশে চড়ার মতো কিছু নয়
- পানি: পুকুর, বালতি, বাথরুম; এক মুহূর্তও একা নয়
- ওষুধ, রাসায়নিক তালাবদ্ধ
- ছোট চুম্বক, বোতাম ব্যাটারি নাগালের বাইরে: গিলে ফেললে গুরুতর বিপদ
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
অনেক পরিবারে দুই বছরেও শিশুকে মুখে তুলে খাওয়ানো হয় আর মোবাইলে কার্টুন দেখানো হয়। ধীরে ধীরে নিজে খাওয়ার সুযোগ দিন, এতে হাতের দক্ষতা ও খাবারে আগ্রহ দুটোই বাড়ে। দাদা-দাদির সাথে গল্প, ছড়া আর খেলা ভাষা বিকাশে দারুণ কাজ করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- ২৪ মাসে দুই শব্দের বাক্য না বলা
- পরিচিত জিনিস বা শরীরের অঙ্গ দেখাতে না পারা
- সহজ নির্দেশ না বোঝা, নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া
- হাঁটায় অস্বাভাবিকতা, বারবার পড়ে যাওয়া
- খেলনা শুধু সারি করে সাজানো, অন্যদের প্রতি আগ্রহ না থাকা
- আগে পারা কথা বা দক্ষতা হারিয়ে যাওয়া
- জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা, খিঁচুনি: জরুরি
