শিশুর প্রতিদিন নানা ধরনের শারীরিক নড়াচড়া দরকার: গড়ানো, হামাগুড়ি, দৌড়, লাফ, ভারসাম্য রাখা। এতে পেশি ও হাড় শক্ত হয়, ঘুম ভালো হয়, মনোযোগ বাড়ে। WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ১–৪ বছরের শিশু দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকবে, আর এক ঘণ্টার বেশি একটানা স্ট্রলার, চেয়ার বা কোলে আটকে থাকবে না। ছোট ফ্ল্যাটেও কুশন, টেপ আর গান দিয়ে এটা সম্ভব।

এক নজরে: বয়স অনুযায়ী

বয়স দৈনিক লক্ষ্য (WHO) খেলার আইডিয়া
০–৬ মাস দিনে কয়েকবার, জেগে থাকা অবস্থায় ৩০ মিনিট টামি টাইম পেটের ওপর খেলা, হাত-পা ছোড়া
৬–১২ মাস মেঝেতে বেশি সময় হামাগুড়ির পথ, বল গড়ানো
১–২ বছর অন্তত ১৮০ মিনিট নানা ধরনের নড়াচড়া ধাক্কা দেওয়া খেলনা, সিঁড়িতে হাত ধরে ওঠা
৩–৫ বছর ১৮০ মিনিট, যার ৬০ মিনিট জোরালো দৌড়, লাফ, বল ছোড়া, নাচ
৬–৯ বছর দিনে গড়ে অন্তত ৬০ মিনিট জোরালো সাইকেল, দড়িলাফ, ক্রিকেট-ফুটবল, সাঁতার

বয়স অনুযায়ী খেলা

০–৬ মাস: টামি টাইম

জেগে থাকা অবস্থায় শিশুকে পেটের ওপর শুইয়ে সামনে রঙিন কিছু রাখুন বা নিজে মুখোমুখি শুয়ে কথা বলুন। প্রথমে ১–২ মিনিট, ধীরে ধীরে বাড়ান। পিঠে শোয়ানো অবস্থায় হাত-পা ছোড়ার সুযোগ দিন; বেশি টাইট কাপড়ে মুড়িয়ে রাখবেন না। ঘুমানোর সময় সবসময় চিত করে শোয়ান।

৬–১২ মাস: মেঝেই খেলার মাঠ

  • হামাগুড়ির পথ: কুশন ও বালিশ দিয়ে ছোট পাহাড় বানান।
  • বল গড়ানো: বসে মুখোমুখি বল গড়াগড়ি।
  • দাঁড়ানোর সাপোর্ট: মজবুত সোফা ধরে দাঁড়ানো।

বেবি ওয়াকার এড়িয়ে চলুন; মেঝেতে খেলা ও হামাগুড়িই হাঁটার সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি।

১–২ বছর: হাঁটা ও অন্বেষণ

  • ধাক্কা-খেলনা: কার্টনে খেলনা ভরে ঠেলে নেওয়া।
  • সিঁড়ি: হাত ধরে ওঠা-নামা, সবসময় পাশে থেকে।
  • নাচ: গান চালিয়ে হাত-পা নাড়া, ঘোরা।

৩–৫ বছর: দৌড়, লাফ, ছোড়া

  • বাধা-পথ: কুশনের ওপর দিয়ে লাফ, টেবিলের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি, চেয়ার ঘুরে দৌড়।
  • টেপের রেখা: মেঝেতে টেপের লাইনে ভারসাম্য রেখে হাঁটা।
  • পশুর হাঁটা: ব্যাঙের লাফ, ভাল্লুকের হাঁটা, কাঁকড়ার চলা।
  • থামো-চলো নাচ: গান থামলে মূর্তি।

৬–৯ বছর: দক্ষতা ও খেলাধুলা

  • দড়িলাফ ও এক্কা-দোক্কা: ছাদে বা বারান্দায়।
  • সাইকেল চালানো: হেলমেট পরে, নিরাপদ জায়গায়।
  • দলগত খেলা: ক্রিকেট, ফুটবল, কানামাছি, বউচি।
  • সাঁতার: প্রশিক্ষকের কাছে শেখা; বাংলাদেশে পানিতে ডোবা শিশুমৃত্যুর বড় কারণ, তাই সাঁতার শেখা জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা।

নিরাপত্তা

  • খেলার জায়গা থেকে ধারালো কোণ, ভাঙার মতো জিনিস সরান।
  • বারান্দা ও ছাদে গ্রিল বা রেলিংয়ের ফাঁক পরীক্ষা করুন; চেয়ার বা টুল রেলিংয়ের পাশে রাখবেন না।
  • পানির কাছে (পুকুর, বালতি, বাথটাব) ছোট শিশুকে এক মুহূর্তও একা রাখবেন না।
  • গরমে দুপুরের রোদে বাইরে খেলা এড়িয়ে চলুন, পানি খাওয়ান।

বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা

শহরে খেলার মাঠ কম, বাইরে যানজট ও ধুলা। তবু সকাল বা বিকেলে কাছের পার্ক, ছাদ বা বাড়ির উঠান কাজে লাগান। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে শিশুকে খোলা মাঠে দৌড়ানোর সুযোগ দিন, তবে পুকুর-খালের কাছে কড়া নজর রাখুন। বর্ষার দিনে ঘরের ভেতরে বাধা-পথ বা নাচের খেলা ভালো বিকল্প।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি শিশু ৬ মাসে মাথা ভালোভাবে ধরে রাখতে না পারে, ৯ মাসে সাপোর্ট দিয়েও বসতে না পারে, ১৮ মাসে না হাঁটে, শরীরের এক পাশ অন্য পাশের চেয়ে কম ব্যবহার করে, বা আগে পারা কাজ ভুলে যায়, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সম্পর্কিত গাইড