সব শিশুর জন্য একটিমাত্র "সেরা" ডায়াপার নেই। যে ডায়াপার শিশুর ওজনের সঠিক সাইজের, লিক করে না, আর ত্বকে র‍্যাশ বা লাল দাগ ফেলে না, সেটিই আপনার শিশুর জন্য ভালো। তাই বড় প্যাক কেনার আগে একটি ছোট প্যাক দিয়ে চেষ্টা করুন, তিনটি জিনিস দেখুন: ফিট, শোষণ আর ত্বকের প্রতিক্রিয়া। নিচে সাইজ চার্ট, ধরন বাছাই আর র‍্যাশ এড়ানোর নিয়ম একসাথে দেওয়া হলো।

সাইজ চার্ট: ওজন দেখে নিন

সাইজ শিশুর ওজন (আনুমানিক) সাধারণত কোন বয়সে
নবজাতক (NB) ৫ কেজি পর্যন্ত জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ
S ৪–৮ কেজি প্রায় ১–৪ মাস
M ৬–১১ কেজি প্রায় ৪–১০ মাস
L ৯–১৪ কেজি প্রায় ১০ মাস থেকে ২ বছর
XL ১২ কেজির বেশি প্রায় ২ বছরের পর

ব্র্যান্ডভেদে মাপ কিছুটা আলাদা, তাই প্যাকেটের ওজনসীমা দেখে নিন। দুই সাইজের মাঝামাঝি হলে বড়টি সাধারণত বেশি আরামদায়ক।

সাইজ বদলানোর সময় হয়েছে যখন কোমর বা উরুতে লাল দাগ পড়ে, স্ন্যাপ বা টেপ টেনে লাগাতে হয়, অথবা ঠিকমতো পরানোর পরও বারবার লিক হয়।

টেপ, প্যান্ট নাকি কাপড়ের ডায়াপার?

ধরন কখন সুবিধাজনক মনে রাখুন
টেপ (বেল্ট সিস্টেম) নবজাতক, শুয়ে থাকা শিশু দুই পাশের টেপ দিয়ে মাপমতো আটকানো যায়
প্যান্ট গড়াগড়ি বা হামাগুড়ি দেওয়া শিশু আন্ডারওয়্যারের মতো টেনে পরানো যায়, পাশ ছিঁড়ে খোলা যায়
কাপড়ের (রিইউজেবল) বাসায় দিনের বেলা, খরচ কমাতে ধোয়ার ঝামেলা আছে, রাতে একটি প্যাড যথেষ্ট নাও হতে পারে

অনেক পরিবার দুটো মিলিয়ে ব্যবহার করে: দিনে বাসায় কাপড়ের ডায়াপার, রাতে ও বাইরে ডিসপোজেবল।

ভালো ডায়াপার চেনার উপায়

  • শোষণ: কয়েক ঘণ্টা পরও ওপরের স্তর শুকনো লাগে।
  • পায়ের ঘের: নরম ইলাস্টিক, যা লিক আটকায় কিন্তু দাগ ফেলে না।
  • কোমর: নরম ও প্রসারণযোগ্য; পেটে চাপ দেয় না।
  • বাতাস চলাচল: বাইরের স্তর খুব প্লাস্টিকের মতো হলে গরমে ঘাম জমে।
  • সুগন্ধ: সুগন্ধি ছাড়া ডায়াপার সংবেদনশীল ত্বকে সাধারণত কম সমস্যা করে।

কতক্ষণ পরিয়ে রাখা যায়, দিনে কয়টা লাগে

দিনে সাধারণত প্রতি ৩–৪ ঘণ্টায় এবং পায়খানার পরপরই বদলান। নবজাতকের দিনে ৮–১২টি পর্যন্ত ডায়াপার লাগতে পারে, বড় শিশুর ৫–৭টি। রাতে ভালো শোষণক্ষমতার ডায়াপার বেশিক্ষণ চলে, তবে পায়খানা করলে ঘুম ভাঙিয়ে হলেও বদলে দিন।

মাসিক খরচ: ব্র্যান্ড ও সাইজভেদে বাংলাদেশে প্রতি পিস প্রায় ১৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দেখা যায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে দিনে ৮–১০টি ধরলে মাসে কয়েক হাজার টাকা খরচ হতে পারে। প্যাকেটের মোট দামকে পিসের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তুলনা করুন।

ডায়াপার পরানোর নিয়ম

১. হাত ধুয়ে নিন, নতুন ডায়াপার, ওয়াইপস ও ক্রিম হাতের কাছে রাখুন। ২. পুরোনো ডায়াপার খুলে সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছুন, বিশেষ করে মেয়েশিশুর ক্ষেত্রে। ৩. ত্বক কিছুক্ষণ বাতাসে শুকাতে দিন; প্রয়োজনে পাতলা করে র‍্যাশ ক্রিম। ৪. নতুন ডায়াপারের পেছনের অংশ কোমরের নিচে রেখে সামনে আনুন। ৫. টেপ এমনভাবে লাগান যেন পেট ও ডায়াপারের মাঝে দুই আঙুল ঢোকে। ৬. পায়ের ঘেরের ভাঁজ বাইরের দিকে উল্টে দিন, এতে লিক কমে। ৭. নবজাতকের নাভি না শুকানো পর্যন্ত ডায়াপারের ওপরের কিনারা নাভির নিচে ভাঁজ করে রাখুন।

ডায়াপার র‍্যাশ এড়াতে

AAP জানায়, ডায়াপার র‍্যাশের প্রধান কারণ দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকা ও ঘষা। তাই:

  • ঘন ঘন বদলান
  • অ্যালকোহল ও সুগন্ধিমুক্ত ওয়াইপস বা পানি ব্যবহার করুন
  • জিংক অক্সাইড ক্রিম পাতলা করে দিন
  • দিনে কিছুক্ষণ ডায়াপার ছাড়া রাখুন
  • খুব টাইট করে পরাবেন না

২–৩ দিনে না কমলে, ফোসকা, পুঁজ বা খোলা ঘা হলে, র‍্যাশ ডায়াপারের বাইরে ছড়ালে বা জ্বর থাকলে চিকিৎসককে দেখান। ছত্রাক সংক্রমণে আলাদা চিকিৎসা লাগে।

বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ডায়াপারের নিচে ঘাম জমে, তাই গ্রীষ্মে আরও ঘন ঘন বদলানো আর মাঝে মাঝে ডায়াপার ছাড়া রাখা জরুরি। দীর্ঘ যাত্রা বা যানজটের জন্য ব্যাগে বাড়তি ডায়াপার, ওয়াইপস আর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ রাখুন। ব্যবহৃত ডায়াপার কাগজে মুড়ে ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন, কমোড বা ড্রেনে নয়। বাছাই নিয়ে আরও জানতে AAP-এর ডায়াপার ও পোশাক বিষয়ক পাতা দেখতে পারেন।

সম্পর্কিত গাইড