নবজাতক দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমায়, তবু বাবা-মা ঘুমাতে পারেন না — এটাই প্রথম কয়েক মাসের মজার বাস্তবতা। শিশুর ঘুম কেন এমন আর কীভাবে ধীরে ধীরে একটা ছন্দ আনা যায়, জানলে এই সময়টা একটু সহজ হবে।
কতটা ঘুমায়
| বয়স | দিনে মোট ঘুম (মোটামুটি) | একবারে |
|---|---|---|
| ০–৪ সপ্তাহ | ১৪–১৮ ঘণ্টা | ১–৩ ঘণ্টা, তারপর খাওয়ার জন্য জাগে |
| ১–৩ মাস | ১৪–১৭ ঘণ্টা | রাতে কোনো কোনো সময় ৩–৪ ঘণ্টা টানা |
প্রতিটি শিশু আলাদা — কেউ একটু কম, কেউ বেশি ঘুমায়। খাওয়া, ওজন বাড়া ও জেগে থাকার সময় সতেজতা ঠিক থাকলে সংখ্যা নিয়ে চিন্তার দরকার নেই।
কেন বারবার জাগে
- ছোট পাকস্থলী: অল্প দুধে পেট ভরে, তাড়াতাড়ি আবার ক্ষুধা লাগে
- হালকা ঘুম বেশি: নবজাতকের ঘুমের প্রায় অর্ধেকই হালকা, "সক্রিয়" ঘুম — নড়াচড়া করে, শব্দ করে, মুখ বাঁকায়, সহজে জেগে যায়
- দিন-রাত চেনে না: শরীরের ঘড়ি (সার্কাডিয়ান রিদম) তৈরি হতে দুই-তিন মাস লাগে
প্রথম কয়েক সপ্তাহে শিশু ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমালে, বিশেষ করে ওজন কম হলে বা জন্ডিস থাকলে, জাগিয়ে খাওয়াতে হতে পারে — ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
দিন আর রাতের পার্থক্য শেখান
দিনে:
- ঘর আলোকিত রাখুন, পর্দা খুলে দিন
- জেগে থাকলে কথা বলুন, গান গান, খেলুন
- ঘরের স্বাভাবিক শব্দ চলতে দিন
রাতে:
- আলো কম, শান্ত পরিবেশ
- খাওয়ানো ও ডায়াপার বদলানো চুপচাপ, কম আলোয়, বেশি খেলা বা কথা ছাড়া
- কাজ শেষে আবার শুইয়ে দিন
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনেক শিশু রাতে একটু বেশি ঘুমাতে শুরু করে।
ক্লান্তির সংকেত চিনুন
- হাই তোলা
- চোখ ঘষা, কান টানা
- এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা বা মুখ ফিরিয়ে নেওয়া
- হঠাৎ খিটখিটে, অস্থির
এই সংকেত দেখলেই শোয়ানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত ক্লান্ত শিশুকে ঘুম পাড়ানো আরও কঠিন। নবজাতক সাধারণত একবারে মাত্র ৪৫–৯০ মিনিট জেগে থাকতে পারে।
একটি সহজ ঘুমের রুটিন
দুই-তিন মাসের দিকে প্রতি রাতে একই ছোট কয়েকটা কাজ একই ক্রমে করলে শিশু বুঝতে শেখে "এবার ঘুমের সময়":
১. হালকা গোসল বা ভেজা কাপড়ে মুছে দেওয়া ২. পরিষ্কার ডায়াপার ও আরামদায়ক জামা ৩. দুধ খাওয়ানো ৪. মৃদু গান বা ঘুমপাড়ানি ছড়া ৫. আলো নিভিয়ে শুইয়ে দেওয়া
ঘুম ঘুম কিন্তু পুরো ঘুমিয়ে পড়ার আগে বিছানায় শোয়ানোর চেষ্টা করুন — শিশু ধীরে ধীরে নিজে নিজে ঘুমাতে শেখে। তবে এই বয়সে কোলে বা বুকের দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়াও পুরোপুরি স্বাভাবিক।
নিরাপদ ঘুমের নিয়ম
- সবসময় চিত করে শোয়ান — দিনের ছোট ঘুমেও
- শক্ত, সমতল বিছানা; উপরে শুধু টানটান করে বিছানো চাদর
- বালিশ, পাশবালিশ, নরম খেলনা, ঢিলা কাঁথা-কম্বল নয়
- প্রথম ছয় মাস মা-বাবার একই ঘরে, আলাদা বিছানায়
- সোফা বা চেয়ারে শিশুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন না
- অতিরিক্ত কাপড়ে মোড়াবেন না, মাথা ঢাকবেন না
- বাড়িতে ধূমপান নয়
বাবা-মায়ের ঘুম
- শিশু ঘুমালে আপনিও একটু ঘুমিয়ে নিন
- রাতের কাজ পালা করে ভাগ করুন
- পরিবারের কেউ দিনে শিশুকে দেখলে সেই সময়টা বিশ্রাম নিন
কখন ডাক্তারকে বলবেন
শিশু অস্বাভাবিক বেশি ঘুমায় ও খেতে জাগে না, ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে কষ্ট বা লম্বা বিরতি দেখা যায়, অথবা কিছুতেই ঘুমায় না ও অনবরত কাঁদে — শিশু বিশেষজ্ঞকে জানান।
সম্পর্কিত গাইড
এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে
০–৩ মাসের শিশুর ঘুম: কতটা ঘুমায়, কীভাবে রুটিন গড়বেন লেখার তথ্য যাচাই করতে who.int, who.int, unicef.org ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।
