নবজাতকের জন্য প্রথম তিন মাসে সত্যিই যা লাগে তা বেশ সীমিত: নরম সুতির জামা, কাঁথা বা সোয়াডল, ডায়াপার ও ওয়াইপস, গোসলের জিনিস, নিরাপদ ঘুমের জায়গা আর বাইরে যাওয়ার একটি ব্যাগ। দোকানে বা অনলাইনে অনেক কিছু "দরকারি" মনে হলেও শিশু খুব দ্রুত বড় হয়, আর আত্মীয়দের কাছ থেকেও অনেক উপহার আসে। তাই নিচের তালিকার "লাগবেই" অংশ দিয়ে শুরু করুন, বাকিগুলো প্রয়োজন বুঝে কিনুন।
এক নজরে: কী কয়টা লাগবে
| বিভাগ | জিনিস | পরিমাণ (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| জামা | ওয়ানসি/বডিস্যুট, রম্পার, পায়জামা | ৫–৭টি বডিস্যুট, ২–৩টি রম্পার |
| ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা | টুপি, মোজা, হাতমোজা (শীতে) | ২–৩ সেট |
| মোড়ানো ও ঘুম | মসলিন সোয়াডল বা নরম কাঁথা, মশারি | ৩–৪টি কাঁথা/সোয়াডল, ১টি মশারি |
| ডায়াপার | নবজাতক বা S সাইজের ডায়াপার, অথবা কাপড়ের ন্যাপি | দিনে ৮–১২টি |
| পরিষ্কার | অ্যালকোহল-মুক্ত ওয়াইপস বা তুলা, ডায়াপার র্যাশ ক্রিম | ১–২ প্যাক ওয়াইপস, ১টি ক্রিম |
| গোসল | নরম তোয়ালে, মৃদু বেবি ওয়াশ, বাথ টাব (ঐচ্ছিক) | ২–৩টি তোয়ালে |
| খাওয়ানো | নার্সিং প্যাড, ফিডিং কুর্তি (মায়ের জন্য) | ৬টি প্যাড |
| বাইরে যাওয়া | ডায়াপার ব্যাগ, বাড়তি এক সেট জামা | ১টি ব্যাগ |
| স্বাস্থ্য | ডিজিটাল থার্মোমিটার, নখ কাটার নরম কাঁচি | ১টি করে |
জামা: কম কিনুন, ঠিকটা কিনুন
নবজাতকের ত্বক খুব কোমল, তাই নরম সুতির, ট্যাগ-লেস জামা নিন। নিচে স্ন্যাপ বাটন থাকলে ডায়াপার বদলানো সহজ, আর সামনে খোলা জামা মাথা দিয়ে গলানোর ঝামেলা কমায়। ০–৩ মাস সাইজ খুব বেশি কিনবেন না; জন্মের ওজন বেশি হলে অনেক শিশু কয়েক সপ্তাহেই ৩–৬ মাসের জামা পরে। সাইজ নিয়ে সন্দেহ হলে আমাদের সাইজ গাইড দেখুন।
প্রথমবার পরানোর আগে প্রতিটি নতুন জামা হালকা ডিটারজেন্টে ধুয়ে নিন।
ঘুম: নিরাপদ জায়গাই সবচেয়ে জরুরি
শিশু আপনার ঘরেই ঘুমাবে, কিন্তু আলাদা শক্ত ও সমতল বিছানায়। AAP-এর নিরাপদ ঘুমের নির্দেশনা অনুযায়ী:
- সবসময় চিত করে শোয়ান
- বিছানায় বালিশ, নরম খেলনা, ভারী কম্বল রাখবেন না
- ঘর খুব গরম রাখবেন না, অতিরিক্ত কাপড় পরাবেন না
- মশার জন্য মশারি ব্যবহার করুন, মশার কয়েল বা স্প্রে শিশুর ঘরে নয়
মসলিন সোয়াডল পাতলা ও বাতাস চলাচল করে, তাই আমাদের গরম আবহাওয়ায় মোড়ানোর জন্য ভালো। শিশু পাশ ফিরতে চেষ্টা শুরু করলে (সাধারণত ২–৪ মাস) সোয়াডল করা বন্ধ করুন।
ডায়াপার ও পরিষ্কার
শুরুতে নবজাতক বা S সাইজের ডায়াপারের একটি-দুটি ছোট প্যাক নিন; একসাথে বড় প্যাক নয়, কারণ শিশুর ওজন বাড়লে সাইজ বদলাতে হয়। ওয়াইপস হলে অ্যালকোহল ও সুগন্ধিমুক্ত নিন; প্রথম কয়েক সপ্তাহ অনেকে হালকা গরম পানি ও তুলাও ব্যবহার করেন। দিনে বাসায় কাপড়ের ন্যাপি ব্যবহার করলে খরচ কমে। ডায়াপার বাছাই নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন বেবি ডায়াপার কোনটা ভালো গাইডে।
গোসল
নাভি না শুকানো পর্যন্ত স্পঞ্জ বাথ যথেষ্ট। তারপর সপ্তাহে ২–৩ বার গোসল। লাগবে নরম তোয়ালে, মৃদু বেবি ওয়াশ বা শ্যাম্পু, আর চাইলে স্ট্যান্ডসহ বাথ টাব, যা মায়ের কোমরের জন্য আরামদায়ক। লোশন ও তেল প্রথম দিকে সাধারণত লাগে না; ত্বক শুকনো হলে অল্প ব্যবহার করুন। বিস্তারিত: বেবি লোশন, শ্যাম্পু, সাবান ও অয়েল কোনটা ভালো।
খাওয়ানো
WHO জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়। তাই শুরুতে দরকার মায়ের জন্য কয়েকটি নার্সিং প্যাড, আরামদায়ক ফিডিং জামা আর একটি নার্সিং বালিশ বা কুশন। চিকিৎসক বোতলে খাওয়ানোর পরামর্শ দিলে তখন BPA-মুক্ত বোতল ও ধীর প্রবাহের নিপল কিনুন।
হাসপাতালের ব্যাগে শিশুর জন্য
- ২–৩টি বডিস্যুট বা জামা
- ১টি টুপি ও মোজা
- ২টি কাঁথা বা সোয়াডল
- নবজাতক সাইজের ডায়াপার ও ওয়াইপস
- বাসায় ফেরার জন্য এক সেট জামা
যা অপেক্ষা করতে পারে
- বেশি খেলনা: প্রথম তিন মাসে আপনার মুখ ও কণ্ঠই সেরা খেলনা
- জুতা: হাঁটা শুরুর আগে দরকার নেই
- দামি পার্টি ড্রেস: শিশু দ্রুত বড় হয়ে যায়
- ফিডিং বোতল ও স্টেরিলাইজার: বুকের দুধ খাওয়ালে শুরুতে নয়
- ওয়াকার: শিশু বিশেষজ্ঞেরা সাধারণত ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
আমাদের দেশে নবজাতককে দেখতে এসে আত্মীয়রা প্রায়ই জামা উপহার দেন, তাই ছোট সাইজের জামা নিজে বেশি না কেনাই ভালো। গরমে নরম সুতি, শীতে টুপি-মোজা-হাতমোজা আর বর্ষায় দ্রুত শুকায় এমন পাতলা কাপড় বেশি কাজে দেয়। নানির বাড়িতে প্রসবের পর থাকলে, জিনিসগুলো আগেই সেখানে পাঠিয়ে রাখুন। সরকারি ইপিআই কেন্দ্রে নবজাতকের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়; টিকা কার্ড সাবধানে রাখুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নবজাতকের জ্বর বা শরীর খুব ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, খেতে না চাওয়া, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, নাভিতে লাল ভাব বা পুঁজ, ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, অথবা প্রস্রাব কমে যাওয়া: এমন যেকোনো লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। WHO-এর নবজাতকের যত্নের নির্দেশনাও এই বিপদের লক্ষণগুলোর ওপর জোর দেয়।
