ভাগাভাগি এমন একটি দক্ষতা যা শিশু ধীরে ধীরে শেখে। দুই-তিন বছরের শিশু খেলনা দিতে না চাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক, কারণ তার "আমার" ধারণা সবে তৈরি হচ্ছে। জোর করে খেলনা কেড়ে অন্যকে দেওয়ার বদলে পালা করে খেলা, টাইমার আর নিজে উদাহরণ দেখানো দীর্ঘমেয়াদে বেশি কাজে দেয়। পাঁচ-ছয় বছরের দিকে বেশিরভাগ শিশু নিজে থেকে ভাগ করতে শুরু করে।
এক নজরে: কোন বয়সে কতটুকু আশা করবেন
| বয়স | বাস্তব প্রত্যাশা | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ১–২ বছর | ভাগ করতে পারে না; পাশাপাশি খেলে | দুটি একই খেলনা, মনোযোগ ঘোরানো |
| ৩–৫ বছর | পালা করে খেলা শিখছে | টাইমার, "তোমার পরে ওর পালা" |
| ৬–৮ বছর | নিয়মের খেলায় ভাগ করে, তবে ন্যায্যতা চায় | খেলার নিয়ম আগে ঠিক করা |
| ৯–১২ বছর | বন্ধুদের সাথে জিনিস ও সময় ভাগ করে | নিজের ও সবার জিনিস আলাদা করা |
| ১৩–১৭ বছর | ঘরের জায়গা, ফোন, সময় নিয়ে আলোচনা | পারিবারিক চুক্তি, পরস্পরের সম্মান |
ভাগাভাগি শেখানোর কৌশল
- "পালা" শব্দটা শেখান। "এখন তোমার পালা, তারপর রিয়ার পালা।" ভাগ করা মানে চিরতরে দিয়ে দেওয়া নয়, এটা শিশুকে আশ্বস্ত করে।
- টাইমার ব্যবহার করুন। ফোনের টাইমার বা বালিঘড়ি: শব্দ হলে পালা বদল। এতে বড়দের বিচারের দরকার কমে।
- নিজে উদাহরণ দিন। "আমি তোমাকে আমার কমলার অর্ধেক দিলাম।" শিশু দেখে শেখে।
- ভাগ করলে নির্দিষ্ট করে প্রশংসা। "তুমি নিজে থেকে ওকে ব্লক দিলে, ও কত খুশি হলো দেখো!"
- কিছু জিনিস ভাগ করতে হবে না। প্রিয় একটি পুতুল বা কম্বল শুধু তার নিজের, এটা মেনে নিন।
বয়স অনুযায়ী কী করবেন
১–২ বছর: পাশাপাশি খেলা
এই বয়সে শিশুরা একসাথে খেলে না, পাশাপাশি খেলে। দুই শিশু থাকলে সম্ভব হলে একই ধরনের দুটি খেলনা দিন। একজন অন্যজনের খেলনা নিলে শান্তভাবে ফেরত দিন এবং অন্য একটি খেলনায় মনোযোগ ঘোরান।
৩–৫ বছর: পালা করে খেলার চর্চা
বাসায় বোর্ড গেম, বল গড়ানো বা লুডোর মতো সহজ খেলা দিয়ে পালা চর্চা করুন। বিরোধ হলে দুজনকেই সমাধান খুঁজতে বলুন: "একটাই দোলনা, দুজন চাও। কী করা যায়?" অনেক সময় শিশুরা নিজেরাই চমৎকার সমাধান বের করে।
৬–৮ বছর: ন্যায্যতা ও নিয়ম
এই বয়সে "এটা ঠিক না!" বেশি শোনা যায়। খেলার আগে নিয়ম ঠিক করুন: কে আগে, কতক্ষণ। খাবার ভাগের সময় একজন কাটবে, অন্যজন আগে বেছে নেবে, এই পুরোনো কৌশলটা দারুণ কাজ করে।
৯–১২ বছর: নিজের জিনিস, সবার জিনিস
ঘরে কোন জিনিস সবার (টিভি রিমোট, খেলার মাঠের বল) আর কোনটা ব্যক্তিগত (নিজের বই, সাইকেল) তা পরিষ্কার করুন। ব্যক্তিগত জিনিস ধার নিতে অনুমতি লাগবে, এই নিয়ম সবার জন্য।
১৩–১৭ বছর: জায়গা ও সময় ভাগ করা
কিশোর বয়সে বিরোধ হয় রুম, বাথরুমের সময়, ফোন চার্জার বা পরিবারের কম্পিউটার নিয়ে। পারিবারিক বৈঠকে সময়সূচি ঠিক করুন এবং লিখে রাখুন। ভাগাভাগিকে দায়িত্বের সাথে যুক্ত করুন: শেয়ার করা জিনিস যত্নে রাখা।
যা এড়িয়ে চলবেন
- কাঁদলেই অন্যের খেলনা কেড়ে দেওয়া।
- বড় সন্তানকে সবসময় "তুমি বড়, ছেড়ে দাও" বলা।
- "স্বার্থপর" বলে লেবেল দেওয়া।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
যৌথ পরিবারে বা আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে গেলে অনেক শিশু একসাথে খেলে, আর বড়রা প্রায়ই নিজের সন্তানকে "অতিথিকে দিয়ে দাও" বলেন। আগে থেকে শিশুকে প্রস্তুত করুন এবং প্রিয় দুই-একটা খেলনা সরিয়ে রাখার সুযোগ দিন। ঈদে উপহার পাওয়া নতুন খেলনা প্রথম দিনেই ভাগ করতে জোর করবেন না।
কখন সাহায্য নেবেন
পাঁচ-ছয় বছরের পরও যদি শিশু অন্য শিশুদের সাথে একেবারেই খেলতে না পারে, প্রায় সবসময় আগ্রাসী হয়, বা অন্যের অনুভূতিতে কোনো সাড়া দেয় না বলে মনে হয়, তাহলে বিকাশ মূল্যায়নের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
