গান ও ছড়া শিশুর জন্য খেলা, আবার শেখাও। ছন্দ শব্দকে মনে রাখা সহজ করে, হাততালি আর অঙ্গভঙ্গি শরীরের সমন্বয় গড়ে, আর একসাথে গাওয়া শিশু ও বাবা-মায়ের বন্ধন দৃঢ় করে। ভালো গলা লাগে না, দামি বাদ্যযন্ত্রও না; একই ছড়া আনন্দ নিয়ে বারবার গাওয়াই যথেষ্ট। বাংলা ছড়ার বিশাল ভান্ডার, "আয় আয় চাঁদমামা" থেকে "খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো", এই কাজে দারুণ সহায়ক।

এক নজরে: বয়স অনুযায়ী

বয়স খেলার ধরন যা শেখে
০–৬ মাস ঘুমপাড়ানি গান, কোলে দুলিয়ে গাওয়া কণ্ঠ চেনা, শান্ত হওয়া
৬–১২ মাস হাতের খেলার ছড়া, তালে দোলা তাল, অনুকরণ, হাসি
১–২ বছর ছড়ার শেষ শব্দ বলা, অঙ্গভঙ্গির গান নতুন শব্দ, শরীরের অঙ্গ
৩–৫ বছর পুরো ছড়া, তালি-খেলা, নাচ স্মৃতি, ধ্বনি, ছন্দ
৬–৯ বছর নিজে ছড়া বানানো, দলগত গান ভাষার খেলা, সৃজনশীলতা

বয়স অনুযায়ী খেলা

০–৬ মাস: কণ্ঠই সান্ত্বনা

  • ঘুমপাড়ানি গান: প্রতিদিন একই গান ঘুমের সংকেত হয়ে ওঠে।
  • কোলে দোলা: গানের তালে আলতো দোলান; শিশু তাল অনুভব করে।
  • নাম দিয়ে গান: যেকোনো সুরে শিশুর নাম বসিয়ে গান: "রিয়া সোনা, রিয়া মণি।"

৬–১২ মাস: হাত আর তাল

  • হাতের খেলার ছড়া: "আতা গাছে তোতা পাখি"-র সাথে হাততালি।
  • তালে বাজানো: প্লাস্টিকের বাটি আর চামচ; গানের সাথে বাজাতে দিন।
  • লুকোচুরি গান: গানের মাঝে "টুকি!" বলে মুখ বের করা।

১–২ বছর: শেষ শব্দটা শিশুর

  • ফাঁকা রাখুন: "আয় আয় চাঁদমামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে…" থেমে অপেক্ষা করুন; শিশু "যা" বলবে।
  • শরীরের অঙ্গের গান: "মাথা, কাঁধ, হাঁটু, পা" গাইতে গাইতে ছোঁয়া।
  • পশুর গান: গরু "হাম্বা", বিড়াল "মিউ"; শিশু শব্দ যোগ করবে।

৩–৫ বছর: মুখস্থ ও নাচ

  • তালি-খেলা: দুজনে মুখোমুখি বসে ছড়ার তালে হাত মেলানো।
  • থামো-চলো নাচ: গান চললে নাচ, থামলে মূর্তি। মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়।
  • গণনার ছড়া: "এক দুই তিন, চলো যাই ঝিন" ধরনের ছড়ায় সংখ্যা।

৬–৯ বছর: নিজে বানানো

  • ছড়া বানানো: মিল দেওয়া শব্দ খোঁজা: "বিড়াল-খিড়াল", "আম-জাম"।
  • দলগত গান: পরিবারের সবাই মিলে এক লাইন করে।
  • ঘরে বানানো বাদ্যযন্ত্র: বোতলে চাল ভরে মারাকাস, রাবার ব্যান্ডের গিটার।

গান কেন কাজ করে

ছন্দ ও সুর শব্দগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দেয়, তাই শিশু ধ্বনি আলাদা করে শুনতে শেখে, যা পরে পড়া শেখায়ও সাহায্য করে। UNICEF-এর বয়সভিত্তিক খেলার তালিকাতেও গান ও তালের খেলা ছোট শিশুর ভাষা ও সামাজিক বিকাশের জন্য রাখা আছে।

বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা

দাদি-নানির মুখের ছড়া আর ঘুমপাড়ানি গান এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যায়; শিশুর সাথে তাদের এই সময়টুকু রেকর্ড করে রাখতে পারেন। লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা, দীর্ঘ যাত্রা বা যানজটে গানের খেলা সময় কাটানোর চমৎকার উপায়। পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবসের গানগুলোও শিশুকে সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি শিশু গান বা পরিচিত কণ্ঠে একেবারে সাড়া না দেয়, জোরে শব্দেও চমকায় না, বা দুই বছরের মধ্যে কোনো শব্দ বা ছড়ার অংশ অনুকরণ না করে, তাহলে শ্রবণ ও ভাষা বিকাশ মূল্যায়নের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

সম্পর্কিত গাইড