শিশুর বয়স তিন-চার মাস হতেই অনেক মা খেয়াল করেন — চিরুনিতে গোছা গোছা চুল, বালিশে চুল, গোসলের পর ড্রেনে চুল। ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা সাময়িক এবং শরীরের হরমোন ফিরে আসার একটা স্বাভাবিক অংশ।
কেন এমন হয়
আমাদের মাথার চুলের বেশিরভাগ সবসময় বাড়তে থাকে, আর অল্প কিছু "বিশ্রামে" থাকে — সেগুলোই প্রতিদিন ঝরে পড়ে (সাধারণত দিনে ৫০–১০০টা)।
গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি থাকায় চুল বাড়ার পর্যায়টা দীর্ঘ হয় — যে চুল পড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও থেকে যায়। তাই অনেকের গর্ভাবস্থায় চুল ঘন ও উজ্জ্বল লাগে।
প্রসবের পর হরমোন হঠাৎ কমে গেলে এই জমে থাকা চুলগুলো একসাথে বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায় এবং কয়েক মাস পর একসাথে ঝরে পড়ে।
কখন শুরু হয়, কতদিন চলে
- সাধারণত শুরু হয় প্রসবের ২–৪ মাস পর
- সবচেয়ে বেশি পড়ে ৩–৪ মাসের দিকে
- বেশিরভাগ মায়ের ক্ষেত্রে শিশুর প্রথম জন্মদিনের আশেপাশে চুল আগের অবস্থায় ফেরে
- কপালের দুপাশে ছোট ছোট নতুন চুল গজাতে দেখবেন — এটা ভালো লক্ষণ
চুলের যত্নে যা করবেন
- আলতো আঁচড়ান: মোটা দাঁতের চিরুনি; ভেজা চুলে জোরে আঁচড়াবেন না
- শক্ত করে বাঁধবেন না: টাইট খোঁপা বা পনিটেইল চুলের গোড়ায় টান দেয়; আলগা বেণি বা নরম ব্যান্ড ব্যবহার করুন
- হালকা শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার: সপ্তাহে কয়েকবার; কন্ডিশনার চুল কম জট পাকায়
- তাপ ও কেমিক্যাল কম: স্ট্রেইটনার, ড্রায়ারের গরম বাতাস, রং, রিবন্ডিং কয়েক মাস এড়িয়ে চলুন
- তেল মালিশ: নারকেল বা অন্য তেলে আলতো মালিশ চুলের গোড়ার রক্ত চলাচল বাড়ায় ও মন ভালো রাখে — তবে তেল চুল পড়া "বন্ধ" করে, এমন প্রমাণ নেই
- চুল একটু ছোট করে কাটতে পারেন — অনেক মায়ের কাছে ছোট চুলে পড়া কম চোখে পড়ে, যত্নও সহজ
খাবারে যা রাখবেন
- প্রোটিন: ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ — চুলের মূল উপাদান
- আয়রন: কলিজা (অল্প), মাংস, কচুশাক, ডাল — আয়রনের ঘাটতিতে চুল বেশি পড়ে
- জিংক ও বায়োটিন: বাদাম, বীজ, ডিম
- ভিটামিন সি: পেয়ারা, কমলা, আমলকী — আয়রন শোষণে সাহায্য করে
- ডাক্তার যে প্রসব-পরবর্তী ভিটামিন বা আয়রন দিয়েছেন, তা চালিয়ে যান
বাজারের "চুল গজানোর" বড়ি বা দামী সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে খাবেন না, বিশেষ করে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
মনের যত্ন
ঘুমের অভাব আর মানসিক চাপও চুল পড়া বাড়াতে পারে। যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিন, পরিবারের সাহায্য নিন।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
- শিশুর বয়স এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও খুব বেশি চুল পড়ছে
- মাথার কোনো অংশে গোল ফাঁকা দাগ বা টাক দেখা দিচ্ছে
- সাথে খুব ক্লান্তি, শীত বেশি লাগা, ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় — থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে (প্রসবের পর থাইরয়েডের সমস্যা বেশ সাধারণ)
- ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট — রক্তস্বল্পতা হতে পারে
- মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি, লাল দাগ বা ঘা
একটা সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় অনেক সময় কারণ ধরা পড়ে।
সম্পর্কিত গাইড
- প্রসবের পর পেটের দাগ (স্ট্রেচ মার্ক): কী করলে হালকা হয়
- গর্ভধারণের আগে দাম্পত্য যোগাযোগ: মায়ের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা
- মায়ের নিজের যত্ন: গর্ভধারণের আগে থেকে প্রসবের পর
- গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পর মায়ের ঘুম ও বিশ্রাম
এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে
প্রসবের পর চুল পড়া: ভয়ের কিছু নেই, যত্ন নিন এভাবে লেখার তথ্য যাচাই করতে who.int, unicef.org, matritto.com ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।
